আমরা যখন কোন রচনা লিখব বা রিসার্চ পেপার এর অংশ লিখব তখন পুরো রচনা এক প্যারাতে কখনোই লিখব না। এটা আমরা সবাই জানি ও মেনে চলি। কারণ হলো এক প্যারাতে পুরো রচনা লিখে ফেললে পাঠককে বোঝার ক্ষেত্রে কিছু সমস্যার সম্মুখীন হতে হবে।
১। আমাদের রচনায় বিভিন্ন আর্গুমেন্ট/ আইডিয়া থাকবে যেগুলো একসাথে মিলে রচনাকে পূর্ণতা দিবে। সব আর্গুমেন্ট বা আইডিয়া এক প্যারাগ্রাফে দিলে আর্গুমেন্টগুলোকে আলাদা করে বোঝা ও দীর্ঘসময় মনে রাখা কঠিন। বক্তব্যকে নির্দিষ্ট সিস্টেমে আলাদা কয়েকটি অংশে ভাগ করে লিখলে এগুলোকে আলাদা ভাবে বোঝা যায়, এদের মধ্যে সম্পর্ক বোঝা যায় ও দীর্ঘক্ষণ মনে রাখা যায়।
২/ এক জায়গায় অনেক তথ্য থাকলে চোখের জন্য অস্বস্তির কারণ হবে। বিভিন্ন আর্গুমেন্ট/পয়েন্ট/আইডিয়াগুলোর মাঝে ফাঁকা রাখা হলে চোখের জন্য আরামদায়ক হবে।
একটা প্যারা/প্যারাগ্রাফে কি কি থাকা উচিত
১/ মূল ধারণা (Topic Sentence)
প্রতিটি প্যরার একটি মূল ধারণা বা বার্তা থাকে । অর্থাত, একটা প্যরাতে একটাই মূল বার্তা বা আর্গুমেন্ট থাকবে। এই মূল বার্তাকেই বলা হয় টপিক সেন্টেন্স। এটাকে আমরা মেইন পয়েন্ট (main point) ও বলতে পারি।
২/ সহায়ক ধারণা (Support Point)
মূল বার্তা /পয়েন্ট/ধারণা কে শক্তিশালী করার জন্য উদাহরণ দেয়া, কারণ বর্ণনা, অতিরিক্ত বর্ণনা দেয়া- এগুলোর জন্য যে বাক্যগুলো ব্যবহৃত হবে সেগুলোকে বলা হয় সহায়ক ধারণা।
চলুন একটি উদাহরণ দেখে নেয়া যাকঃ
Attracted by anecdotal evidence on the ties between politicians and firms in a large number of developed and developing countries, an increasing number of recent studies examine the phenomenon of politically connected firms (PCFs hereafter). In countries where the legal system is too weak to secure the rights of private investors and the level of corruption is high, political connections and close ties to the government are valuable in helping corporations to “overcome these market and state failures and avoid ideological discrimination”.
এইটা একটা রিসার্চ পেপার থেকে নেয়া । এই প্যরাতে প্রথম সেন্টেন্স এ বলা হয়েছে যে 'ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সাথে রাজনীতির সম্পর্ক' এ বিষয়ে গবেষণাপত্রের/গবেষণার সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। দ্বিতীয় বাক্যে এর একটা কারণ তুলে ধরা হয়েছে। বলা হয়েছেঃ দুর্বল বিচার ও আইন প্রয়োগ ব্যবস্থা ও প্রচুর দুর্নীতি যে দেশে আছে, সেদেশে ব্যবসায়ীরা জুলুম ও বৈষম্য থেকে বাঁচার জন্য রাজনীতির সাথে জড়িয়ে পড়ে।
সুতরাং দেখা গেলো এই প্যরার মূলকথা হচ্ছে ব্যবসা ও রাজনীতির সম্মন্ধ নিয়ে গবেষকদের আগ্রহ বেড়ে চলেছে এটা বলা। সাথে এই আগ্রহ যে যৌক্তিক সেটা বুঝাতে ব্যবসা-রাজনীতি সম্পর্ক তৈরি হওয়া বিভিন্ন বাস্তব কারণে যে সম্ভব সেটা তুলে ধরেছেন।
দেখা যাচ্ছে লেখার সময় আমার মূল ধারণা/পয়েন্ট কি এটা খেয়াল রাখতে হবে। তাছাড়া এই মূল ধারণাকে গ্রহণযোগ্য করে তোলার জন্য সাপোর্ট পয়েন্ট ও দিতে হবে। যেমনঃ উদাহরণ, পরিসংখ্যান, প্রচলিত গল্প ইত্যাদি ইত্যাদি।
Comments
Post a Comment