মানুষের মাইন্ডসেট বা চিন্তাজগত বা মনোজগতকে দুইভাগে ভাগ করেছেন একজন মনোবিজ্ঞানী ও লেখক জনাব ক্যারল এস ডিউইক । মানুষের চিন্তাজগতের উপরই তার সব কাজ নির্ভর করে এবং সে কিভাবে চিন্তা করে তা তার সফলতাকে অনেকাংশে প্রভাবিত করে।দুইটি ভিন্ন চিন্তাজগত হলঃ ফিক্সড মাইন্ডসেট এবং গ্রোথ মাইন্ডসেট
|
ফিক্সড মাইন্ডসেট
|
গ্রোথ মাইন্ডসেট
|
|
এধরনের মানুষ মনে করে তার বুধিমত্তা পূর্বনির্ধারিত/ জন্মগত এবং নির্দিষ্ট।
|
এরা মনে করে চর্চা ও নতুন অভিজ্ঞতার মধ্যে দিয়ে বুদ্ধিমত্তা বাড়ে বা আরো উন্নত হয়।
|
|
এরা সাধারণত সহজ ও পরিচিত কাজের মাধ্যমে নিজের বুদ্ধির/সক্ষমতার প্রমাণ করতে ব্যস্ত থাকে, ব্যর্থতার ঝুঁকি আছে এমন কাজে হাত দিতে ভয় পায়।
|
এরা মনে করে ব্যর্থতা থেকে মানুষের বুদ্ধিমত্তা ও সক্ষমতা বৃদ্ধি পায় এবং ব্যর্থতাই সফলতার সিঁড়ি।তাই তারা কঠিন ও চ্যালেঞ্জিং কাজে পুর্ণ উদ্যমের সাথে অংশ নেয়।
|
|
এরা ইন্টেলিজেন্স বা বুদ্ধিমত্তাকে সফলতার/ব্যর্থতার একমাত্র কারণ /মাধ্যম মনে করে।
|
এরা মনে করে পরিশ্রম করে সব বাঁধা পেরোনো ও সফলতা অর্জন সম্ভব।
|
|
এরা ব্যর্থ হলে নিজেকে
সফলতার অযোগ্য ও অসমর্থ মনে করে।
|
এরা ব্যর্থ হলে চেষ্টায়
ত্রুটি ছিল মনে করে, ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে পুনরায় শুরু করে। নিজেকে অযোগ্য ও অসমর্থ
ভাবে না।
|
|
এরা ঝুঁকি নিতে পছন্দ
করে না।
|
এরা ঝুঁকি নিতে পছন্দ
করে।
|
|
এরা ব্যর্থতাকে অসম্মানজনক/অপমানজনক
মনে করে।
|
ব্যর্থতাকে সফলতার
স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার অংশ মনে করে। মনে করে ব্যর্থতা হচ্ছে নিজেকে শুধরে নিয়ে আরো
স্মার্ট হিসেবে গড়ে তোলার মাধ্যম।
|
এ পার্থক্যগুলো থেকে আমরা নিজের মাইন্ডসেট সম্পর্কে ধারণা পেতে পারি। এবং নিজের মাইন্ডসেট চেঞ্জ করার জন্য চেষ্টা করতে পারি। হ্যাঁ মাইন্ডসেট চেঞ্জ করাও সম্ভব। এর জন্য দরকার নিজের চিন্তা ও আবেগকে খেয়াল করা যে এটি কোন মাইন্ডসেটের সাথে ম্যাচ করে এবং নিজের চিন্তাকে গ্রোথ মাইন্ডসেটের আলোকে আডাপ্ট/ পরিবর্তন করা ।
তাছাড়া এ বিষয়ে অনেক স্কলারের ট্রেইনিং বা কর্মশালা আছে । অর্থাৎ এডুকেশনের মাধ্যমেও মাইন্ডসেট চেঞ্জ করা যায়।
এ বিষয়ে ক্যারল এস ডিউইক এর বইগুলো খুবই প্রসিদ্ধ। তার একটা বইয়ের নামঃ
মাইন্ডসেটঃ চেঞ্জিং দ্য ওয়ে ইউ থিংক টু ফুলফিল ইয়োর পটেনশিয়াল । ইনফ্যাক্ট আমার এই ব্লগ পোস্টটাও এই বই পড়ে পাওয়া ধারণা থেকে লেখা। অনেক আগে পড়েছিলাম বইটা। বইটা একটা সোনার খনির মত। গল্প, গবেষণার ফলাফল, কেইস স্টাডি কি নেই।
মানূষের মাইন্ডসেট কিভাবে তৈরি হয়, কিভাবে জীবনের সবক্ষেত্রে তাকে প্রভাবিত করে, কিভাবে মাইন্ডসেট পরিবর্তন করা যায়। সবই আছে এই বইয়ে।
যারা নিজের ইংরেজির দক্ষতাকে বাড়াতে চান তাদের জন্য এই বইটা এক ঢিলে দুই পাখি মারার সুযোগ। মানুষের চিন্তাজগতের মত গুরুত্বপূর্ণ এই টপিক সম্পর্কে জানা হবে এবং অনেক নতুন শব্দ ও বাক্য তৈরি করা শেখা যাবে।
বেস্ট অফ লাক। হ্যাপি রিডিং।
৯ঃ৪৮এএম / ১৫-০৭-২০২৪
Comments
Post a Comment