একটা রিসার্চ পেপার পড়তেছিলাম আজ। পড়ি তো মোটামুটি অনেক পেপার। কিছু পেপার শুরুতেই বাদ। প্রিডেটরি জার্নালের অথবা এবস্ট্রাক্ট পড়ে লো কোয়ালিটির মনে হলে পড়ি না। কিন্তু আজকের এটার ব্যাপারে কিছু বলতে চাই।
যে পেপারটার কথা বলছি সেটা পাবলিশ হয়েছে সাসটেইনেবিলিটি নামক জার্নালে। ইম্প্যাক্ট ফ্যাক্টর ৩ এর উপর। সাইট স্কোর ৭ এর মত। এ দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে ভালো জার্নাল।
পেপারটা ভাল টপিকের উপর। এনালাইসিসও যথেষ্ট মানসম্পন্ন ও গ্রহণযোগ্য। কিন্তু লেখার কোয়ালিটি ভাল না। বানান ভুল, গ্রামাটিকাল ভুল তো আছেই , লেখা/বর্ণনা সহজবোধ্য, স্পষ্ট, ও প্রিসাইঝ (সাবলীল) না। অর্থাৎ এই পেপার পাবলিশ করার আগে রিভিউয়ার এসব ব্যাপারে কড়াকড়ি করে নি। এটা এজন্য হতে পারে রিভিউয়ার দেরকে কম সময় দেয়া হয়েছে এবং/ অথবা তাদেরকে চেক করার যে লিস্ট দেয়া হয়েছে তাতে এ বিষয়গুলো ছিল না। অর্থাৎ দ্রুত পাবলিকেশন এর জন্য এই বিষয়গুলো ইগনোর করা হয়েছে।
বিখ্যাত ও ভালো জার্নাল এসব ব্যাপারে কারেকশন দিত। গ্রহণযোগ্য অবস্থায় না আসা পর্যন্ত কারেকশন চলত।
একই জার্নালে এক কলিগের প্রকাশিত লেখা পড়তেছিলাম । খুব পরিশ্রমী ও নিষ্ঠাবান গবেষক । টপিকটা নতুন ও কৌতুহলোদ্দীপক। কিন্তু ঐ একই সমস্যা। এবস্ট্রাক্ট পড়ে দেখলাম। ভিতরে কিছু লাইন পড়লাম। ব্যকরণগত ভুলত্রুটি তো আছেই, এমনভাবে লেখা হয়েছে সহজে বুঝা যায় না। তার মানে লেখার মান (গবেষণার মানের ব্যাপারে বলছি না) এর ব্যাপারে জার্নাল এর তেমন কোন মাথাব্যথা নেই। শুধু দ্রুত পাবলিশ করা হয়েছে। এই আর্টিকেলের লেখা অস্পষ্ট তাতে কি, জার্নালের ইম্প্যাক্ট ফ্যাক্টর তো অনেক, জার্নাল তো কিউ১ এর !
দ্রুত পাবলিশ হলে দ্রুত ডিগ্রী হবে, সময়মত প্রমোশন হবে, ভালো গবেষক হিসেবে খ্যাতি হবে, রিসার্চ ফান্ডিং পাওয়া সহজ হবে। অনেকে এরূপ চিন্তা থেকে এখানে পাবলিশ করেন।
আপনি আপনার লেখা কোথায় পাবলিশ করবেন এটা আপনার ব্যাপার। সাসটেনেবিলিটি জার্নালেই প্রকাশ করুন। কিন্তু এত কষ্ট করে রিসার্চ করে এমন অবস্থায় প্রকাশ করবেন না প্লিজ, যাতে একাডেমিয়ার কোন কাজে না লাগে, ব্যবহারকারীদের কোন উপকারে না আসে।
ব্যকরণ ও লেখার স্পষ্টতার ব্যাপারে জোর দিন প্লিজ। যাতে আপনার লেখা আরো পরিশুদ্ধ, গোছানো, ও স্পষ্ট হয়। কোন অপ্রয়োজনীয় তথ্য না থাকে, কোন সম্পর্কহীন আর্টিকেলের কয়েক লাইন জাস্ট এজন্য অন্তর্ভুক্ত করবেন না যে একই টপিকের বা কাছাকাছি টপিকের। বরং তখন অন্তর্ভুক্ত করুন যখন এটা রিসার্চ গ্যাপ নির্দেশ করবে বা আপনার সিদ্ধান্তকে সমর্থন বা ব্যাখ্যা করে এমন।
লেখা সহজবোধ্য, গোছালো, ও সংক্ষিপ্ত করার জন্য অন্যের ভালো আর্টিকেল পড়তে হবে। বুঝতে হবে লেখা সুন্দর করার কৌশল। লেখা সুন্দর করার ব্যাপারে বই আছে, অনলাইন কোর্স আছে, আরো আছে প্রচুর অনলাইন ম্যাটেরিয়ালস। এগুলোর সাহায্য নিন।
একটু ধৈর্য ধরে আস্তে আস্তে ভেবে চিনতে লিখুন। কয়েকবার রিভিউ করুন। ভাল লেখকের মাধ্যমে রিভিউ করাতে পারেন। বা পেইড সার্ভিসের সাহায্য নিতে পারেন। কিন্তু ভুলে ভরা ও প্রকাশের অনুপযুক্ত অবস্থায় পাবলিশ করে সময়, শ্রম, ও অর্থের অপচয় করবেন না। আপনার নতুন রিসার্চ ওয়ার্ক যদি একাডেমিশিয়ান বা পলিসি মেকারদের কাছে ধর্তব্য না হয় তাহলে রিসার্চ এর আসল উদ্দেশ্য ব্যহত হল। যদিও কাজটা মৌলিক তবুও নতুন জ্ঞান তৈরি হল না । লেখার দুর্বলতার কারণে বিভিন্ন ফিল্ডের ভালো গবেষকদের অনেকেই এটা পড়েই দেখবে না। পলিসি মেকাররাও এগুলো আমলে নেবে না। জ্ঞান তৈরির আসল সার্থকতা তার ব্যবহারে।
অন্যদিকে আলোচনা বা বর্ণনা দুর্বল ও অসম্পূর্ণ হওয়ায় এটাকে ত্রুটিপূর্ণ গবেষণা মনে করে একই বা কাছাকাছি রিসার্চ করবে অন্য কেউ। অথচ এটা অর্থ, সময় ও শ্রমের অপচয় ছাড়া কিছুই না।
আসুন গবেষণাপত্র লেখার ক্ষেত্রে আরো মনোযোগী ও ধৈর্যশীল হই। প্রথমে ধৈর্য নিয়ে লেখা সুন্দর করার কাজটি শিখে ফেললে পরে খুব সহজ মনে হবে। নিজের কাজের গ্রহনযোগ্যতা দেখে আপনি আনন্দিত ও তৃপ্ত হবেন।
Comments
Post a Comment