জীবনে সুস্বাস্থ্য ও সুখ কিসের উপর নির্ভর করে? অথবা ভবিষ্যতে সর্বোচ্চ সুখী হতে হলে কি কি বিষয়ে সময় ও শ্রম দিতে হবে? এ প্রশ্নের উত্তর জানা খুব কঠিন। কারণ তাহলে কিছু সংখ্যক মানুষকে তাদের জীবনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত স্টাডি করতে হবে বা অবজারভেশনে রাখতে হবে। বিভিন্ন পর্যায়ে তার সিদ্ধান্ত গ্রহণ, কাজকর্ম , শারীরিক ও মানসিক অবস্থা, পারিবারিক ও বৈবাহিক অবস্থা ইত্যাদি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করে তার সুখ-দুঃখ, সুস্বাস্থ্য বা খারাপ স্বাস্থ্য ইত্যাদির সত্যিকার কারণ বের করা যাবে। তবে এই ধরণের গবেষণা খুবই দুর্লভ। হয়ত রিসার্চ ফান্ডিং থাকে না, গবেষকদের মৃত্যু হয়ে যায়, অথবা তাদের লক্ষ্যে পরিবর্তন আসে।
তা না করে যদি অতীত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয় তাহলে গবেষণার নির্ভরযোগ্যতা কমে যাবে। কেননা মানুষ অতীতকে পরিপূর্ণভাবে বা সম্পূর্ণভাবে মনে রাখতে পারে না। বরং তার বর্ণনায় এমন কিছু যোগ হবে যেগুলো ঘটেনি। অথবা থাকবে কিছু বিয়োজন। মোটকথা মানুষের অতীতের বর্ণনা হবে পরিবর্তিত বা মডিফাইড।
তাই কষ্টকর ও ব্য্যবহুল হলেও প্রথম পদ্ধতিই বেছে নিয়েছেন হার্ভার্ডের একটি গবেষক দল। প্রায় ৭৫ বছর ধরে তারা সর্বমোট ৭২৪ জন আমেরিকান এর কৈশোর থেকে বৃদ্ধ বয়স পর্যন্ত সময়ের বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করেছেন। মেডিকেল পরিক্ষা করিয়েছেন, ব্রেন এর স্ক্যান করিয়েছেন, পিতামাতার সাথে কথা বলেছেন, স্ত্রীদের সাক্ষাতকার নিয়েছেন। সংগ্রহ করেছেন তাদের বাড়ির জীবন, কর্ম/জীবিকা, স্বাস্থ্য ইত্যাদি সম্পর্কে নানা তথ্য।
এভাবে সংগৃহীত হয়েছে প্রচুর পরিমাণ তথ্য ও উপাত্ত। এ তথ্য ও উপাত্ত বিশ্লেষণ করে তারা খুঁজে পেয়েছেন সুখ ও স্বাস্থ্যের রহস্য। টাকা বা খ্যাতি না। ড্রিম জবও না। তারাই বেশি সুখী ও সুস্বাস্থ্যের অধিকারী যাদের (আশে পাশের মানুষের সাথে) সম্পর্কগুলো ভাল ও উন্নতমানের। অর্থাত স্ত্রী, বাবা - মা, অন্যান্য আত্বীয়স্বজন, সহকর্মী, প্রতিবেশী, ধর্মীয় গোষ্ঠী প্রভৃতির সাথে সুসম্পর্ক। এই সুসম্পর্ক ই জীবনে আনে সুখ ও সুস্বাস্থ্য।
এ গবেষণা থেকে সম্পর্ক বা রিলেশনশিপ এর ব্যাপারে তিনটা বড় লেসন বা ফলাফল পাওয়া গেছে বলে দাবি প্রকুল্পটির পরিচালক মিঃ রবার্ট ওয়ালডিঙ্গার এর।
এক, সামাজিক যোগাযোগ আমাদের সুখ ও সুস্বাস্থ্যের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ । একজন ব্যক্তি সামাজিক ভাবে যত বেশি সংযুক্ত যেমনঃ পরিবার, বন্ধুবৃত্ত, ধর্মীয় ও পেশাগত গোষ্ঠীর সাথে সম্পৃক্ত, সে তুলনামূলকভাবে তত বেশি সুখী, শারীরিকভাবে বেশি সুস্থ এবং দীর্ঘজীবী হয়।
অন্যদিকে একাকীত্ব খুবই ক্ষতিকর। ফলাফলে দেখা যায়, যারা সামাজিকভাবে কম সংযুক্ত বা নিঃসঙ্গ তারা অন্যদের তুলনায় কম সুখী থাকে, মাঝবয়সে তাদের স্বাস্থ্যের অবনতি হয়, ব্রেনের কার্যক্ষমতা অপেক্ষাকৃত আগে কমে যায় এবং কম আয়ু পায়।
অনেক মানুষের মধ্যেও মানুষ খুব নিঃসঙ্গ অনুভব করতে পারে, এমনকি বিয়ে করেও অনেকের নিজেকে একাকী মনে হতে পারে।
সুতরাং, দ্বিতীয় লেসন হলো একজনের কয়জন বন্ধু আছে তা না বরং বন্ধুত্বটা কেমন বা কতটা গাঢ় তাই আসলে মূখ্য। তাই যখন মানুষ সবসময় ঝগড়া ও সংঘর্ষের মধ্যে থাকে তখন তার শারীরিক ও মানসিল উভয় স্বাস্থ্যের ক্ষতি হয়। এমনকি ঝগড়াপূর্ণ সংসার তালাক এর চেয়ে বেশি ক্ষতিকর। বিপরীতে সম্পর্ক যখন সম্ভাব ও হৃদ্যতাপূর্ণ, সেটা মানুষের স্বাস্থ্য রক্ষা করে ।
তিন, সামাজিক সুসম্পর্ক শুধু আমাদের শরীরকে সুরক্ষা দেয় তা নয়, বরং এটা আমাদের মস্তিষ্ক (Brain) কেও সুরক্ষিত রাখে। এমনকি বৃদ্ধ বয়সেও যখন একে অন্যের উপর আস্থার সম্পর্ক থাকে তখন স্মৃতি থাকে অক্ষুণ্ণ।সুতরাং, সম্পর্কের মধ্যে যখন আস্থাযোগ্যতা (Trustworthiness) থাকে তখন মাঝে মাঝে ঝগড়া তেমন ক্ষতিকর নয়। প্রয়োজনে অন্যের উপর আস্থা রাখা যাবে সম্পর্ক যখন এমন হয় তখন ব্রেন দীর্ঘদিন ভাল ও তীক্ষ্ণ থাকে, স্মৃতি থাকে অটুট।
What makes a good life? Lessons from the longest study on happiness
গবেষণা অনুযায়ী আসলেও তাই।সুসম্পর্ক জীবনে সুখের কারন
ReplyDeleteএটা গবেষণারই গল্প (গবেষণা থেকে নেয়া)। ধন্যবাদ আকিব ।
Delete