আবেগীয় বুদ্ধিমত্তার চারটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান (Four Broad Emotional Intelligence Skills)
ব্যক্তিগত সক্ষমতা (Personal Competence)
আত্ব-সচেতনতা (Self-awareness)
এই মুহূর্তে আপনার মনের অবস্থা কি? এই
মধ্যে আপনার মধ্যে আবেগের কোন ধরণ কাজ করছে ? তা কি আপনি বুঝতে পারেন ? বিভিন্ন পরিস্থিতিতে
আপনার মধ্যে কি ধরণের আবেগ কাজ করে ? নিজের বিষয়ে এসব প্রশ্নের উত্তর যদি আপনার জানা
থাকে তবে আপনি আত্বসচেতন। কোন জিনিস আপনাকে আনন্দ দেয় ও হাসায়, কখন আপনি দুঃখিত হন
ও কাঁদেন ? বিভিন্ন পরিস্থিতিতে আপনার আবেগীয় আচরণ কতটা সঠিক ও যুক্তিযুক্ত তা আপনাকে
ভাবতে হবে।
যখন আপনি কোন চ্যালেঞ্জিং পরিস্থিতিতে
(লক্ষ্য অর্জনে কঠিন বা অনতিক্রম্য বাধা, অনিশ্চয়তা ইত্যাদি) তখন কি অনুভব করেন, কেমন
আচরণ করেন? বিভিন্ন ঘটনা (সফলতা, ব্যর্থতা, বিচ্ছেদ ইত্যাদি) ও ব্যক্তির ব্যবহারে আপনার
অনুভূতি ও আচরণ কেমন হয়? নিজের আবেগকে ভালোভাবে বুঝার ও নিয়ন্ত্রণ করার জন্য এ প্রশ্নগুলোর
উত্তর আপনাকে জানতে হবে।
আত্বসচেতনতা বা নিজের আবেগীয় আচরণ ভালোভাবে
বুঝা সহজ নয়। এজন্য কাঠখড় পোড়াতে হয়। যখন আপনি নিজের আবেগের প্রতি সুচিন্তিতভাবে খেয়াল রাখবেন তখন উত্তর দেয়া বা প্রতিক্রিয়া দেখানো
থেকে বঞ্চিত হবেন। এটা আপনাকে মেনে নিতে হবে।
আত্ব-ব্যবস্থাপনা (Self-management)
এক কথায় বলতে গেলে বিভিন্ন পরিস্থিতি বা
লোকদের প্রতি আমাদের আবেগের বহিঃপ্রকাশকে নিয়ন্ত্রণ করা হল আত্ব-ব্যবস্থাপনা। এটি আত্ব-সচেতনতার
পরের ধাপ। অন্যভাবে বলতে গেলে নিজের আবেগীয় আচরণ সম্পর্কে লব্ধ জ্ঞানকে এমনভাবে ব্যবহার
করতে হবে যাতে আমাদের আচরণ পরিস্থিতির সাথে খাপ খায় (উদ্ভট না হয়) এবং ভাল ফলাফল দেয়।
অথবা আমাদের আচরণ যেন নমনীয় (পরিস্থিতি বিচারে উপযুক্ত) ও ইতিবাচক হয়।
সামাজিক সক্ষমতা (Social Competence)
সামাজিক সচেতনতা (Social-awareness)
অন্যদের আবেগ ও মনের অবস্থা বুঝাকে বলে
সামাজিক সচেতনতা (Social-awareness)। অন্য মানুষদের সাথে, যেমনঃ পরিবারের অন্য সদস্য (স্ত্রী, সন্তান,
বাবা-মা, ভাই-বোন, আত্বীয়-স্বজন), সহকর্মী, অধিনস্থ কর্মী, বস, আমাদের উঠাবসা করতে
হয়। এ ক্ষেত্রে তাদের চিন্তা-ভাবনা, দৃষ্টিভঙ্গি, আবেগ-অনুভূতি সম্পর্কে ধারণা থাকা
খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কার্যকর যোগাযোগ ও সুসম্পর্কের জন্য এগুলো জানতে হবে। তাদের চিন্তা
–ভাবনা ও অনুভব – অনুভূতি এক কিনা তা অনুধাবন করতে হবে।সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি করতে
হলে দরকার শোনা ও পর্যবেক্ষণ। শুনতে হবে মনঃ সংযোগ দিয়ে । মনোযোগ দিয়ে অন্যদের কথা
শোনা খবই কঠিন কাজ। এর জন্য এমন অনেক কাজ বাদ দিতে হয় যেগুলো আমরা সচরাচর খুব পছন্দ
করি। অন্যরা যখন কথা বলে তখন আমরা মনোযোগ দিয়ে না শুনে ব্যস্ত হয়ে যাই তাকে কি উত্তর
দিব সে নিয়ে চিন্তা করায়, সে কি যুক্তি দিবে তা আগে থেকেই অনুমান করায়, বা উপর্যুপরি
কথা বলায়। অন্যদের চিন্তা ও অনুভূতি ভালো করে জানার জন্য তার প্রতি যথাযথ মনোযোগ দেয়ার
গুণটি আসলে অনেকদিন ধরে চর্চা করে অর্জন করতে হয়। একদিনে এই অভ্যাস গড়ে উঠে না।
সামাজিক দক্ষতা বা সম্পর্ক ব্যবস্থাপনা (Relationship Management)
নিজের ও অন্যদের আবেগ ও আবেগীয় আচরণ সম্পর্কে জেনে অন্যদের সাথে সঠিক আচরণ করা ও সুসম্পর্ক গড়ে তোলাই হল সম্পর্ক ব্যবস্থাপনা বা সামাজিক দক্ষতা। আপনার সম্পর্ক ব্যবস্থাপনা দক্ষতা মূলত পূর্ববর্তী তিনটি দক্ষতার উপর নির্ভরশীল। অর্থাৎ আত্বসচেতন, সামাজিকভাবে সচেতন ও আত্বব্যবস্থাপনায় দক্ষ ব্যক্তিরা অন্যদের সাথে ব্যবহার/আচরণ দক্ষতার সাথে সুসম্পন্ন করতে পারে। স্পষ্ট ও নিঃসংকোচ যোগাযোগ ও পারস্পরিক সংঘাত ও মনোমালিন্য দূর করাও এর অন্তর্ভুক্ত। তাছাড়াও দীর্ঘদিন চেষ্টা করে অন্যদের সাথে গভীর বন্ধন ও সম্পর্ক গড়ে তোলাও এর মধ্যে পড়ে। যারা সম্পর্কের বৃত্ত গড়ে তুলতে পারে নানাভাবে এর আধ্যমে লাভবান হয়। অনেকসময় ব্যক্তিগতভাবে পছন্দনীয় নয় এমন ব্যক্তির সাথেও একধরণের পেশাগত বা বাণিজিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে হয় যা নানাভাবে কাজে দেয়। টেকসই সম্পর্ক গড়ে তুলতে হলে আগ্রহের সাথে চর্চা ও সম্পর্কের যত্ন নিতে হয়।
অন্যরা আপনার কথা কতটা মনোযোগ দিয়ে শুনবে,
বুঝবে, গ্রহণ করবে ও মেনে নিবে তা নির্ভর করে তাদের সাথে আপনার সম্পর্কের উপর। অন্যদের
সাথে বন্ধন যত দূর্বল, তাদেরকে আপনার কথা বা মতামত শোনানো ও মানানো ততটাই কঠিন। মানুষ
যাতে আপনার কথা মনোযোগ দিয়ে শুনে ও মানে তার জন্য আপনাকে ‘সম্পর্ক ব্যবস্থাপনা’র কৌশল
ও দক্ষতা কাজে লাগাতে হবে। অন্যদের সাথে সুসম্পর্কের চর্চা যত বেশি করবেন ততই লাভবান
হবেন । এমনকি শক্ত ও অনমনীয় আপনার বশ হয়ে যাবে।

Comments
Post a Comment