ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের 'গ' ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় ২০১২-২০১৩ সেশনে ২য় স্থান অর্জন করেছিলাম।আমার গল্পটা সংক্ষেপে তুলে ধরব যাতে এথেকে কেউ উপকৃত হতে পারে। মহান আল্লাহর সাহায্য তো অবশ্যই ছিল। এজন্য আলহামদুলিল্লাহ । আমার গল্পের শুরুটা হয়ে ছিল অনেক আগে থেকে। এসএসসি ও এইচএসসি তে গোল্ডেন জিপিএ ৫.০০ পেয়েছিলাম। যা গল্পের শেষটাকে (Climax) সম্ভবপর, অধিক আনন্দময় ও সৌন্দর্যমন্ডিত করেছে । আমাকে বড় সাফল্য দিয়েছে। এখন আমি কয়েকটি পয়েন্ট তুলে ধরব যা আমার সাফল্য কে ত্বরান্বিত করেছে বলে মনে করি।
এসএসসি ও এইচএসসিতে (মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকে ) ভাল ফলাফলঃ
প্রত্যেক ভার্সিটিতেই মাধ্যমিকে ও উচ্চ মাধ্যমিকের জিপিএর উপর কম বেশি স্কোর বা নম্বর থাকে। যেমনঃ ঢাকা ভার্সিটিতে ৮০ নম্বর থাকে।সুতরাং স্পষ্টতই আমি এ দিকে অনেক এগিয়ে ছিলাম। যাদের এ দুটিতে ভাল ফলাফল রয়েছে তাদের অভিনন্দন।তবে মনে রাখতে হবে "You have to keep up your efforts till the last moment. Do not celebrate too early." আর যাদের এ দুটিতে জিপিএ কম তারা হতাশ হইয়ো না। কম জিপিএ নিয়ে চান্স পাওয়ার অনেক উদাহরন রয়েছে। দুদলকেই বলি ভর্তি পরীক্ষায় ভাল করতে হবে। তবে এখন যারা মাধ্যমিক বা উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে আছ তাদের মনে রাখা উচিত যে তোমার ভার্সিটি ভর্তির যুদ্ধ বা দৌড়টা শুরূ হয়ে গেছে।
সময়ের সদ্ব্যবহারঃ
কোচিং এর কাছেই বাসা ছিল। ট্রাফিক জ্যামে ঘণ্টা ঘণ্টা সময় নষ্ট হত না। একটা Dumbphone/Feature Phone ছিল। ফেসবুক, ইউটিউব ইত্যাদি ব্যবহারের সুযোগ ছিল না। মেসে থাকতাম। বাজার বা রান্নার ঝামেলা ছিল না। Group study র নামে আড্ডা দিতাম না।
মুখস্থ বর্জন করাঃ
আমি ছোটবেলা থেকেই মুখস্থ বিদ্যা বর্জন করতাম। সবকিছু বুঝে বুঝে পড়ার চেষ্টা করতাম। বুঝে পড়লে বেশি স্থায়ী হয়। এভাবে পড়লে ভিত (Basic) মজবুত ( Strong) হয়। যা খুবই জরুরি।
হ্যাঁ শব্দার্থ ও কিভাবে বেশিদিন মনে থাকে তার জন্য টেকনিক ফলো করতাম। শব্দের অর্থ
ও ব্যবহার পরিষ্কারভাবে জানার চেষ্টা করতাম। প্রত্যেক টা শব্দের অর্থ অক্সফোর্ড
ডিকশনারি থেকে দেখে নিতাম। আগে শেখা শব্দগুলো রিভিশন দিয়ে তারপর নতুন শব্দ শিখতাম ।
রূটিন মাফিক পড়াশোনাঃ
কখোন কি পড়বো তা ঠিক না থাকলেও কোন বিষয়ে প্রতিদিন ন্যুনতম কত ঘণ্টা পড়বো তা মেনে চলতাম। আমার টাইম বন্টন টা এমন ছিলঃ
কখোন কি পড়বো তা ঠিক না থাকলেও কোন বিষয়ে প্রতিদিন ন্যুনতম কত ঘণ্টা পড়বো তা মেনে চলতাম। আমার টাইম বন্টন টা এমন ছিলঃ
বিষয়
|
প্রতিদিন
সময় (কমপক্ষে)
|
ইংরেজি
|
৫
ঘণ্টা
|
হিসাববিজ্ঞান
|
৩
ঘণ্টা
|
ম্যানেজমেন্ট
|
২
ঘণ্টা
|
বাংলা
|
২
ঘণ্টা
|
সর্বমোট
|
১২
ঘণ্টা
|
প্রতিদিন কমপক্ষে ১২ ঘণ্টা পড়ার চেষ্টা করতাম।
স্টাডি ম্যাটেরিয়ালঃ
আমি একটা কোচিং এ ভর্তি হয়েছিলাম (সাইফুরস)। মূলত তাদের দেয়া লেকচার শিট, বই, শিক্ষকদের সাজেসটেড অতিরিক্ত ম্যাটেরিয়াল পড়তাম। বাংলার জন্য অতিরিক্ত নবম দশম শ্রেণির ব্যাকরণ বই , হিসাববিজ্ঞানের জন্য RABS , ইংরেজির জন্য ADROIT পড়েছিলাম। তাছাড়া শেষের দিকে UCC র সাজেশন গুলা দেখেছিলাম।
শীট ও বই রিভিউ /রিভিশনঃ
সিলেবাস একবার শেষ হওয়ার পর একি বিষয় কয়েকদিন পড়ে রিভিউ করতাম যাকে ছাড়ানো বলে থাকি আমরা।যেমন টানা কয়েকদিন যাবত বাংলা সাহিত্য ও ব্যাকরণ অংশের সব ম্যাটেরিয়াল শেষ করার টার্গেট নিতাম। এভাবে প্রত্যেক সাবজেক্ট কয়েকবার রিভিউ করেছিলাম পরীক্ষার পূর্বে।
পরীক্ষার সময়ের কৌশলঃ
অনেক সময় অনেক ভালো প্রস্তুতি নিয়েও পরীক্ষায় কৌশলের অভাবে অনেকে ভাল করতে পারে না। ঠাণ্ডা মাথায় পরীক্ষা দেয়া চাই। এজন্য আগের রাতে সব প্রয়োজনীয় জিনিস গুছিয়ে রাখা, সকাল সকাল বের হওয়া জরুরি। উত্তরপত্র ধীরে সুস্থে পূরণ করেছিলাম। তাছাড়া প্রথমে কমন ও সন্দেহাতীতভাবে সঠিক উত্তর করার পর আনকমন ও একেবারে অজানা বা দুরূহ প্রশ্ন সমাধানের চেষ্টা করা। পারত পক্ষে কোন অংশ ছেড়ে না দেয়াই ভালো। তবে নেগেটিভ মারকিং এর বিষয়টা মাথায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ। তাই মডেল টেস্ট ও প্রচুর প্র্যাকটিস করা উচিত পরীক্ষার আগে।
সবশেষে কয়েকটা কথাঃ
সবশেষে কয়েকটা কথাঃ
বর্তমানে ভর্তি পরিক্ষার বিষয় ও মানবন্টনে কাঠামোগত কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে (যেমন লিখিত ও এমসিকিউ অংশ ইত্যাদি) এসব বিষয় মাথায় রেখে অভিজ্ঞদের (কোচিং এর শিক্ষক, ইউটিউব ভিডিও বা অন্যান্য ইন্টারনেট রিসোর্স, পরিচিত ভার্সিটি পড়ুয়া) গাইডলাইন মেনে ভালোভাবে প্রস্তুতি নাও। ভালো জায়গায় ই চান্স হবে । ইনশাআল্লহ।
কোচিং করতেই যে হবে এমন না। কিন্তু করা উত্তম। আসলে কোচিং এর শিক্ষক রা যে টেকনিক শিখায় ও গাইডলাইন দেয়, যে competitive environment দেয় এইগুলা উপকারী। পড়তে হবে নিজেকেই। এইটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ । ( তবে এখন ইউটিউবেও অনেক রিসোর্স পাওয়া যায়। অনলাইনে ই মডেল টেস্ট দেয়া যায়। একান্ত অপারগ না হলে ফ্রি জিনিসের উপর ভরসা না করাই উচিত)
সবশেষে বলব যে সময়কে কাজে লাগাও। কৌশলী হও। আল্লাহর কাছে সাহায্য চাও। জয় আসবে। ইনশাআল্লহ।
সবশেষে বলব যে সময়কে কাজে লাগাও। কৌশলী হও। আল্লাহর কাছে সাহায্য চাও। জয় আসবে। ইনশাআল্লহ।
Comments
Post a Comment