আত্মোন্নয়নের জন্য আরশোলা তত্ত্ব (Cockroach Theory For Self-development)
![]() |
গুগলের সিইও মি. পিচাই সুন্দররাজন (সুন্দর পিচাই) |
Translated By: Md. Hossain Ali
আমাদের জীবনে সমস্যার অন্ত নেই। সেই সমস্যা সঠিকভাবে মোকাবিলা না করতে পারা আমাদের কষ্টের কারণ হয়। এর কারণ হিসেবে আমরা সমস্যাগুলোকেই দায়ী করি। আমরা ভুলে যাই যে আমাদের বিভিন্ন বিষয়ের প্রতি আমাদের বিশ্বাস (Attitude) সঠিক নয় এবং
আমরা সুষ্ঠুভাবে সমস্যা মোকাবিলা করতে পারি না। আমরা যদি সবকিছুর প্রতি সঠিক ধারণা নিয়ে এগিয়ে যাই ও সমস্যা সমাধানের সঠিক উপায় অবলম্বন করি তখন সমস্যা আর সমস্যা থাকবে না এবং জীবন খুব সুন্দর হবে। এ বিষয়ে বিখ্যাত প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান গুগলের সিইও মি. পিচাই সুন্দররাজন (সুন্দর পিচাই) এর একটি খুব দারুণ বক্তব্য রয়েছে যা Cockroach Theory বা আরশোলা তত্ত্ব নামে প্রসিদ্ধ। বক্তব্যটি বাংলায় অনেকটা এরূপ ছিলঃ
“আমি একবার একটি রেস্টুরেন্ট এর ভেতরে ছিলাম। অন্যান্যদের মধ্যে
একদল ভদ্রমহিলাও ছিলেন। হঠাত কোথা হতে এসে
একটি আরশোলা কোন এক মহিলার উপর পড়ল। তিনি
ভয়ে চিৎকার শুরু করলেন। আতঙ্কগ্রস্ত চেহারা ও উতকন্ঠিত স্বরে তিনি চিৎকার করছিলেন, আরশোলাটি থেকে বাঁচার জন্য কাতরভাবে হাত নাড়ছিলেন এবং লাফাচ্ছিলেন। তার
এরূপ প্রতিক্রিয়ায় এ আতঙ্ক অন্যদের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়ল। অবশেষে তিনি আরশোলাটি থেকে বাঁচলেন বটে কিন্তু এটি দলের
অন্য এক ভদ্রমহিলার উপর গিয়ে পড়ল। এবার দ্বিতীয়জনের পালা শুরু হল। তিনি আগেরজনের
নাটকটিই চালিয়ে গেলেন। ইতোমধ্যে ওয়েটার
তাদেরকে ঊদ্ধারের জন্য হাজির হলেন। পালাক্রমে নিক্ষিপ্ত হওয়ার পর এটি এক সময় ওয়েটার এর উপর গিয়ে পড়ল। তিনি দৃঢ়ভাবে দাড়ালেন, সমস্ত শরীরকে স্থির করলেন
এবং নিজের শার্ট এর উপর আরশোলাটির নড়াচড়া পর্যবেক্ষণ করলেন। অতঃপর সু্যোগ বুঝে আরশোলাটিকে ধরে ফেললেন এবং
রেস্টুরেন্ট এর বাইরে ফেলে দিয়ে আসলেন। কফিতে চুমুক দিতে দিতে আমোদপূর্ণ ঘটনাটি দেখার
পর আমার মনে কিছু নতুন চিন্তার আবির্ভাব হল। আমি বিস্মিত হলাম এবং নিজেকে জিজ্ঞাসা করলাম,
“ভদ্রমহিলাদের এরূপ ব্যবহারের জন্য কি আসলে আরশোলাটিই দায়ী?”
যদি তাই হয় তবে ওয়েটারের প্রতিক্রিয়াও এমন হলনা কেন? কোনরকম
হাঙ্গামা না করে কি নিখুঁতভাবে সে সমস্যাটির সমাধান করল!
আসলে আরশোলাটি নয় আরশোলার দ্বারা সৃষ্ট সমস্যাটি মোকাবিলা
করার অক্ষমতাই সেই ভদ্রমহিলাদের এরূপ ভোগান্তির কারণ। আমি বুঝলাম, আমার বাবা,
অফিসের বস, বা স্ত্রীর চেঁচামেচি আমার জন্য আসল সমস্যা নয়, বরং এগুলোর সঠিক সমাধান
না করতে পারাটাই আমার বিরক্তির জন্য দায়ী।
যানজট নিজে আসলে আমার জন্য পীড়ার মূল কারণ নয়, বরং এটার সাথে মিল রেখে ঠিক
সময়ে কাজ না করতে পারার কারণেই আমাকে ভুগতে হয়।
সমস্যার চেয়ে সেটার প্রতি প্রতিক্রিয়াই আমার জীবনে কষ্ট ও বিশৃঙ্খলার কারণ
হয়।
গল্পটির শিক্ষণীয় বিষয়ঃ
আমি বুঝলাম জীবনে প্রতিক্রিয়া দেখানো, যা সাধারণত ভেবেচিন্তে
করা হয় না, ঊচিত নয়। বরং সাড়া দেওয়া উচিত
যা সবসময় ধীরে সুস্থে ও বুঝে শুনে করতে হয়। রেস্টুরেন্ট এর ওয়েটার সুচিন্তিতভাবে সাড়া
দিয়েছিল সেখানে ভদ্রমহিলাদের আচরণ ছিল স্বভাবজাত প্রতিক্রিয়া যা তারা আকস্মিক ভাবে
না ভেবেই করেছিল। এভাবে ভাবলে জীবনকে আরো একটি
সুন্দর উপায়ে বুঝা যায়।
জীবনে যারা সুখী তারা এইজন্য সুখী নয় যে তারা সবকিছু ঠিকঠাক
পায়, বরং এইজন্য যে তারা সবকিছুর প্রতি ঠিকঠাক ধারণা বা বিশ্বাস পোষণ করে। “

Comments
Post a Comment